ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ সৈকত: একাই যেন ছোট্ট সাইবার হেল্প সেন্টার

ঠাকুরগাঁওয়ের তরুণ সৈকত: একাই যেন ছোট্ট সাইবার হেল্প সেন্টার

ঠাকুরগাঁওয়ের সৈকত আহমেদ এখন এলাকার তরুণ সমাজে বেশ পরিচিত নাম। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে তার দখল এমনই পাকা যে, ফেসবুকে কোনো সমস্যা হলে কিংবা মোবাইল বা কম্পিউটারে সামান্য গলদ দেখা দিলেই সবাই ছুটে যান তার কাছে।

সৈকতের বয়স আঠারোর কোঠায়। ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। অন্যরা যেখানে খেলাধুলা বা ঘুরে বেড়াতে ব্যস্ত, সৈকত তখন বসে থাকতেন পুরনো কম্পিউটার নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে। ধীরে ধীরে নিজের চেষ্টায় শিখে ফেলেন কম্পিউটার সার্ভিসিং, সফটওয়্যার ইনস্টলেশন, এমনকি হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডি উদ্ধার পর্যন্ত।

এখন তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের আইসিটি-প্রেমী তরুণদের কাছে যেন এক ‘ডিজিটাল গার্ডিয়ান’। কারো ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে, কেউ পেজে প্রবেশ করতে না পারলে কিংবা অনলাইনে প্রতারণার শিকার হলে, সৈকতের দরজাতেই প্রথম কড়া নাড়ে তারা।

সৈকত বলেন, মানুষ এখন অনলাইনে অনেক সময় কাটায়। অনেকেই জানেন না কিভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে হয়। আমি চেষ্টা করি, যাদের সমস্যা হয়, তাদের পাশে দাঁড়াতে।”

তার সহপাঠী তামিম বলেন, “আমাদের অনেক সময় ফেসবুকে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। সৈকতের কাছে গেলেই মিলে যায় সমাধান। বিনা পয়সায় কাজ করে দেয় সে, শুধু চায় মানুষ যেন নিরাপদে থাকে।”

স্থানীয়রা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সৈকতের মতো উদ্যমী ও সহানুভূতিশীল মানুষই এখন সবচেয়ে প্রয়োজন। প্রযুক্তিকে নিজের স্বার্থে নয়, মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা এই বিশ্বাস থেকেই সৈকতের কাজের শুরু।

প্রযুক্তির এই যুগে সৈকত আহমেদ যেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক অনানুষ্ঠানিক ‘সাইবার হেল্প ডেস্ক’। মানুষ হাসিমুখে ফিরে যায় তার কাছ থেকে, আর এভাবেই প্রযুক্তি ও মানবতার সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি করছেন এই তরুণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *