উপদেষ্টার সতর্কবার্তার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ কর্মকর্তার খোঁজ নেই, তালাবদ্ধ অফিস

উপদেষ্টার সতর্কবার্তার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ কর্মকর্তার খোঁজ নেই, তালাবদ্ধ অফিস

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বুধবার সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে যানজটে আটকা পড়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১২ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি; অফিসটিও তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।

এই অবস্থায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড পর্যন্ত খানাখন্দ অস্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ শুরু করেছে। এ কাজের তদারকিতে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে প্রকল্প পরিচালক, কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপকরা রয়েছেন।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বুধবার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, “এটাই তোমাদের ক্যাম্প অফিস। ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখান থেকেই সমস্যা সমাধান করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা হলে চাকরি যাবে।” তবে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অফিস তালাবদ্ধ এবং কর্মকর্তারা অনুপস্থিত।

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চারলেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক শামিম আহমেদ বলেন, “চারলেন প্রকল্প পরিচালক স্যার আশুগঞ্জে আছেন, আমি লাঞ্চ করতে গিয়েছিলাম।”

প্রকল্প পরিচালক মোঃ আব্দুল আওয়াল মোল্লা জানান, “আমরা সাইড অফিসে আছি, কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ”তবে তিনি ১২ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা অবস্থান স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

২০২০ সালে আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। পাঁচ বছর পার হলেও নানা জটিলতায় কাজ শেষ হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় মহাসড়কের অবস্থা আরও বেহাল হয়েছে। এখন ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *