আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এবং ইসরায়েলি বিমানবাহিনী প্রধানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি আজ সোমবার আইআরজিসির বিবৃতির বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জায়নবাদী শাসনের অপরাধী প্রধানমন্ত্রীর’ প্রধান দপ্তর এবং বিমানবাহিনীর নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রকে গুঁড়িয়ে দিতে ইরান তাদের অত্যাধুনিক ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই সরাসরি হামলা ইসরায়েলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়কে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত কার্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিমানবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তরে আঘাত হানা ইরানের সামরিক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার ফলে ইসরায়েলের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রাণকেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়কে নিশানা করার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা এখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের মূল কেন্দ্রে আঘাত করতে সক্ষম। ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম চাবিকাঠি তাদের বিমানবাহিনী। সেই বাহিনীর প্রধানের সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আইআরজিসি।
হামলায় ব্যবহৃত ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের দূরপাল্লার ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র হিসেবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে একে ‘জায়নবাদী অপরাধের’ যোগ্য জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেল।

