কাল থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

কাল থেকে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দেড় দশক পর আবারও ঢাকা–করাচি আকাশপথে সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এই নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। ট্রানজিট ছাড়াই সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ থাকায় ভ্রমণ সময় যেমন কমবে, তেমনি যাত্রীদের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

বিমান সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এতে ব্যবহৃত হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে আনুমানিক তিন ঘণ্টা।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর পাকিস্তানে বাংলাদেশের ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা। অনেকেরই মতে, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় শুধু ভ্রমণ সহজই হবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার আগ্রহ বহুদিনের—এ সুযোগ নতুন করে সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেবে বলেও আশা যাত্রীদের।

বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, আগে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাত্রীদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত খরচে যাতায়াত করতে হতো। এখন সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় ভ্রমণ হবে দ্রুত, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং ঝামেলামুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুটটি কেবল যাত্রী পরিবহনের জন্য নয়, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সরকার প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করে থাকে, যা আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়লে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, ঢাকা–করাচি রুট পুনরায় চালু হলে দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই রুটে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের দুবাই, দোহা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ট্রানজিট হাব হয়ে যাতায়াত করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন করে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় রাউন্ড ট্রিপে যাত্রীপ্রতি ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমবে। এখন সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় ঢাকা–করাচি যাতায়াত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *