চার বছরেও শেষ হয়নি পঞ্চগড়ে মাদরাসার ভবন নির্মাণের কাজ

চার বছরেও শেষ হয়নি পঞ্চগড়ে মাদরাসার ভবন নির্মাণের কাজ

একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাফিলতিতে চার বছরেও শেষ হয়নি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার উত্তর রামপুর দাখিল মাদরাসার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আর ভোগান্তিতে রয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের কলাম পর্যন্ত কাজ হয়েছে। ছাদ ঢালাইয়ের জন্য সাটারিং চলছে। মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩শ এর মতো। নিয়মিত ১শ থেকে দেড় শ জন শিক্ষার্থী মাদরাসায় আসে। পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, রাজস্ব বাজেট ভুক্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার উত্তর রামপুর দাখিল মাদরাসায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দে চারতলা ভিতযুক্ত একতলা ভবনের নির্মাণকাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

মেসার্স মনিরা এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় ৯ মাস। কিন্তু কেটে গেছে প্রায় চার বছর চার মাস। এখনো পর্যন্ত ৩০ শতাংশ নির্মাণ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। যদিও শিক্ষা প্রকৌশলী অফিসের কাগজে সেটা ৭০ শতাংশ কাজ দেখানো হয়েছে। বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পর্ন হলে ৪০ শতাংশ বাড়ার কথা জানিয়েছেন উপ সহকারী প্রকৌশলী শ্রীমন্ত দেব শর্মা।

মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক বছরেও মাদরাসায় ভবন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায়, চরম অনিশ্চতার মধ্য দিয়ে ক্লাস করছি। যার ফলে প্রচণ্ড গরমে খুবই কষ্ট হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে আরো বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় আমাদের।

আটোয়ারী উপজেলার উত্তর রামপুর দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট সানাউল্লাহ জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাদরাসা ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা শ্রেণী কক্ষ সংকটে রয়েছি। বার বার শিক্ষা প্রকৌশলী অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মেসার্স মনিরা এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে বারবার কল করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুফিয়া সুলতানা জানান, কাজ করার জন্য বারবার ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের অর্থ সংকটের কারনে এতদিনে কাজ শেষ হয়নি। আমরা ঠিকাদারকে চাপ দিচ্ছি কাজটা তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। তবে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান কর্মকর্তা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *