একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে উপজেলার মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে কর্মরত হিসাব সহকারী কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার সাইফুল ইসলামকে তার অফিসের নারী শিক্ষিকার সাথে আটক হয়েছেন।
ইসলামের নিজের ভাড়া বাসায় পরকীয়া প্রেমিকার সাথে আটক করেছেন তারই স্ত্রী সখিনা খাতুন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টার দিকে দেবীগঞ্জ পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকায় এক ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। সেই বাসায় পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন সাইফুল ইসলাম।
প্রেমিকার নাম যুথি বেগম। তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন কিশোর কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে দেবীগঞ্জ উপজেলায় আবৃত্তি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি বোর্ডিংপাড়া এলাকার মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। সখিনা বেগম সরকারের দেয়া সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পের দেয়া ঘরে বসবাস করতো।
সাইফুলের স্ত্রী সখিনা বেগম ও স্থানীয়রা জানায়, সাইফুল ইসলাম ও সখিনা বেগম দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। সাইফুল ইসলাম দেবীগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই যুথি বেগমের সাথে অবৈধ পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই সখিনা বেগমকে প্রায়ই মারধর করতেন সাইফুল ইসলাম।
শনিবার বিকেলে সাইফুল ইসলাম তার ভাড়া বাসায় যুথিকে ডেকে আনেন। যুথি বাসায় আসার পর সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সখিনা বেগমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই সময় সাইফুল ইসলাম তার স্ত্রী সখিনা বেগমকে জোর করে ঘরের বাইরে বের করে দেন। পরে সখিনা বেগম ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় চলে আসেন। এরই মধ্যে এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে জড়ো হতে থাকে। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে যায় এলাকার পরিস্থিতি। সখিনা বেগম থানায় গিয়ে অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফুল ইসলাম ও যুথি বেগমকে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসেন।
এইদিকে থানায় আনার পর যুথি বেগম জানান, এত কিছু হওয়ার পর তিনি আর সংসারে ফিরে যেতে পারবেন না। সাইফুলকে তিনি বিয়ে করতে চান। সাইফুল ইসলামও এই সময় তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে যুথি বেগমকে বিয়ে করবেন বলে জানান।
যুথি বেগম দেবীগঞ্জ পৌর যুব মহিলালীগের নেত্রী। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ছবি তুলে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতেন।
সাইফুলের স্ত্রী সখিনা বেগমের দাবি, এর আগেও তার স্বামী সাইফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় থাকতে পরকিয়ায় জড়ান সাইফুল ইসলাম। সেবারও সেখানে এই নিয়ে শালিস হয়। পরে সেখান থেকে দেবীগঞ্জে বদলী করে দেওয়া হয় সাইফুল ইসলামকে। দেবীগঞ্জে এসে পুনরায় পরকিয়ায় জড়ান সাইফুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, এর আগে সাইফুল ইসলাম আমাকে না জানিয়ে দুইটি বিয়ে করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সেই দুই স্ত্রীকে তালাক দেন সাইফুল। এভাবে যেখানেই যান সেখানেই নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ান তিনি। শুধু পরকিয়া নয় বরং প্রায় সময় টাকার জন্য সখিনা বেগমকে চাপ দিতেন ও মারধর করতেন বলেও জানান তিনি।
সখিনা বেগম জানান, সাইফুল ইসলাম সব সময় মাদক সেবন করতো। ছেলে মেয়েদের অজ্ঞান করার জন্য সিরিজ দিয়ে নেশা জাতীয় কিছু প্রয়োগ করতো। তারপর ছেলেমেয়েরা অজ্ঞান হয়ে পড়লে বাহির থেকে মেয়ে নিয়ে এসে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হতো।
এ ঘটনায় সখিনা বেগম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলাম ও যুথি বেগমকে আসামী করে শনিবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দাখিল করেন।
এইদিকে এই ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ চত্বরের বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রকল্পে চাকরী করলেও যুথির অফিসে কোন দায়িত্ব ছিল না। তার দায়িত্ব ছিল দেবীগঞ্জ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিশোর কিশোরী ক্লাবে আবৃত্তি শিক্ষক হিসেবে। কিন্তু এরপরও যুথিকে সব সময় অফিস সময়ে সাইফুলের সাথে অফিসে দেখা যেত। শুধু অফিসে নয় সাইফুল অফিসের কোন কাজে বাইরে গেলেও সাথে যুথি বেগমকে সাথে করে নিয়ে যেতেন। তাদের এই অনৈতিক সম্পর্কের কথা উপজেলা পরিষদ চত্বরের কম-বেশি অনেকেই জানেন।
মহিলা বিষয়ক কার্যালয় হতে সেলাই মেশিন দেয়ার নাম করে এলাকার অনেক গরিব মহিলাদের কাছ থেকে টাকা নেয়ারও অভিযোগ করেন। পরে যুথি বেগম থানায় আটক হওয়ার পর আবেদা বেগমসহ অসহায় মহিলারা থানায় এসে জড়ো হন। পরে যুথি বেগম ৭ দিনের সময় নিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এই ঘটনায় থানায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে আসামী দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

