নির্বাচনে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা টিআইবির

নির্বাচনে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা টিআইবির

ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের মতে, নির্বচানি সহিংসতার পাশাপাশি পতিত কর্তৃত্ববাদী শক্তির ঘোষিত নির্বাচনিবিরোধী তৎপরতার ফলে এ শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘প্রাক নির্বাচন ও গণভোট পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই শঙ্কার কথা জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখায়েরুজ্জামান।

নিজেদের পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলছে, শুরুতে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা গেলেও ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা সহিংসতাপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমের পুরোনো রাজনৈতিক চর্চা বজায় রেখেছেন। ফলে দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, অর্ন্তকোন্দল, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং সহিংসতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগের মতোন রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনে অর্থ, ধর্ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার শুধু অব্যাহত রাখেননি, বরং বিশেষ করে অর্থ ও ধর্মের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সবার জন্য প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং শান্তিপূর্ণ আয়োজনে নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য অংশীজনের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দৃশ্যমান হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। তারা বলছে, রাজনৈতিক সংঘাত, আচরণবিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা প্রতিরোধে কমিশনের কার্যকর প্রয়োগ দৃশ্যমান নয়। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণাসহ নির্বাচনের প্রায় প্রতিটি স্তরে দল ও প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিবিধ অনিয়ম করলেও কমিশন তা এড়িয়ে যাচ্ছে। যা নির্বাচনে সকল দল এবং প্রার্থীর প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র এবং সকল শ্রেণির ভোটারদের জন্য অপরিহার্য সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক ঘাটতির ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ভোটের রায় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সংখ্যালঘু, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সকল ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ দায়িত্ব একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও। তবেই শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়া সম্ভব। অন্যথায় ঝুঁকি থেকেই যাবে।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *