পঞ্চগড়ে ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে ইটভাটা ভাংচুর করার ও সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব জিগজ্যাগ প্রযুক্তির ইটভাটার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এবারের মত সাময়িক বিরতির জন্যই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পঞ্চগড় জেলার ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকরা স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি গ্রহনকালে জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান বলেন, মন্ত্রনালয়ের নির্দেশেই ইটভাটাগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেসব ভাটার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেসব ভাটা বন্ধ করা হবে। তবে যেগুলো বাইরে রয়েছে সেসব ভাটা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে। আপনারা আপনাদের স্মারকলিপি জমা দেন। সে স্মারকলিপি আমরা মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো।
স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাজিউল ইসলাম। এসময় ইটভাটা মালিক আব্দুল মান্নান, গোলাপ আজম গোলাপ, হাজী আনোয়ার হোসেন, ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রায় ২০/২৫ বছর থেকে ইটভাটার মালিকরা ব্যবসা করে আসছে। ভাটার মালিকরা সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্সসহ সরকারের সকল প্রকার রাজস্ব প্রদান করছে। বর্তমানে ইটভাটাগুলোর মৌসুম চলছে। অধিকাংশ ইটভাটাগুলো বর্তমানে চালু অবস্থায় আছে। বর্তমানে চালু করা ইটভাটাগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হলে ভাটার মালিকরা আর্থিক ভাবে সংকটে পড়বে। ভাটাগুলোতে কাঁচামাল, প্রস্তুতকরা ইট রয়েছে। অনেক ভাটায় শ্রমিকদের মুজুরিও বাকি আছে। এসব দিক বিবেচনা করে ইটভাটাগুলোতে অভিযান বা উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়।
সকালে জেলার প্রায় ৩০টি ইটভাটার প্রায় কয়েক হাজার শ্রমিক মহেন্দ্র ট্রাক্টর নিয়ে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে এসে জড়ো হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ করেন। পরে ভাটার মালিকরা পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে দেখা করেন। সেখান থেকে ভাটার মালিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে স্বাক্ষাত করেন।
