একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল্লাহ এর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল্লাহ। তার অনুপস্থিতির সুযোগে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় তার বাড়িতে সংঘটিত হয়েছে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা। দুর্বৃত্তরা বাড়ি থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও আনুমানিক ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ নুরুল্লাহ ও তার মা ওমরাহ পালনে সৌদিআরবে থাকায় বাড়িতে ছিলেন কেবল তার স্ত্রী, দুই শিশু সন্তান ও শাশুড়ি ছিল। গভীর রাতে ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত বাড়ির পেছনের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।
ভুক্তভোগীরা জানান,ডাকাতদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। পরিবারের সদস্যদের মুখ চেপে ধরে এবং শিশুদের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমারির চাবি ও নগদ টাকার অবস্থান জানতে চায় তারা। একপর্যায়ে ঘরের আলমারি, ড্রয়ার ও আসবাবপত্র তছনছ করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
অধ্যক্ষের স্ত্রী জেদনি আক্তার বলেন, ঘুমের মধ্যেই অনুভব করি কেউ মুখ চেপে ধরেছে। কোনো মতে হাত সরিয়ে দেখি বাচ্চাদের গলায় ছুরি ধরে আছে কয়েক জন মুখোশধারী। তারা আমাদের চুপ থাকতে বলে এবং সন্তানদের সামনে ভয় দেখিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যায়।
অধ্যক্ষের ভাই মাহমুদ উল্লাহ জানান, আমি পঞ্চগড় শহরে থাকি। রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখি বাড়ির সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে।
প্রতিবেশী সানাউল্লাহ বলেন, ডাকাতির পর ভাবি আমাকে ফোন করেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে ৯৯৯-এ ফোন দেই। পরে পুলিশ আসে।
পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক চন্দ্র রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

