পঞ্চগড়ে নিয়ম বহিঃর্ভূত ভাবে চলছে চা নিলামের প্রস্তুতি, মানা হচ্ছে না প্রক্রিয়া

পঞ্চগড়ে নিয়ম বহিঃর্ভূত ভাবে চলছে চা নিলামের প্রস্তুতি, মানা হচ্ছে না প্রক্রিয়া

চা নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, নিলামের অন্তত ৭ দিন আগে সব চায়ের স্যাম্পল টেস্ট করে কোয়ালিটি নির্ধারণ করতে হয়। এরপর ক্যাটালগ বন্ধ করে ক্রেতাদের হাতে স্যাম্পলসহ ক্যাটালগ পৌঁছে দেওয়ার কথা। এ ধাপগুলো শেষ হওয়ার আগেই চা ওয়্যারহাউজিং করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র।

পঞ্চগড় হিমালয় ব্রোকার্সের ক্যাটালগে একটি কারখানার ৬শ বস্তা চা নিলামে দেখানো হলেও, পঞ্চগড় গ্রিন লিফ ওয়্যারহাউজে ঐ কারখানার একটি বস্তাও পাওয়া যায়নি।

গ্রিন লিফ ওয়্যারহাউজের স্বত্বাধিকারী সাবেক চেয়ারম্যান জব্বার হোসেন বলেন, আমি উত্তরা গ্রিনলিফ চা কারখানার এক বস্তা চাও ওয়্যার হাউজিং করিনি। অথচ হিমালয় ব্রোকার্স তাদের ক্যাটালগে এন্ট্রি দিয়েছে, যা আমার কাছে প্রতারণার শামিল। তিনি আরও জানান, চায়ের অ্যাসোসিয়েশনের লোকজন এসে তার ওয়্যার হাউজে চা গুনে গেছে। সেখানে অন্য কারখানার কিছু চা থাকলেও উত্তরা গ্রিনলিফ চা ছিল না।

একজন অকশন বিডার বলেন, আমরা ক্যাটালগ হাতে পেয়েছি, কিন্তু স্যাম্পল পাইনি। যদি সত্যিই হিমালয় ব্রোকার্স এভাবে অনিয়ম করে থাকে, তাহলে এর বিচার করবে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও কাস্টমস।
স্মল গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজাহান জানান, খবর পেয়ে আমরা ওয়্যার হাউজে এসেছি। এখানে এ পর্যন্ত মাত্র ৯০ বস্তা চা পাওয়া গেছে।
একজন চা ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন,

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান নানা পদক্ষেপ নিলেও সঠিক তদারকির অভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। টি সফটওয়্যার চালুর পরও অবৈধভাবে চা পাচার হচ্ছে। এছাড়া কুরিয়ারের মাধ্যমেও চা বাইরে চলে যাচ্ছে।

হিমালয় ব্রোকার্স লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, উক্ত চায়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও পঞ্চগড় কাস্টমস অবগত আছে। প্রয়োজনে আমি সব ক্লোজ করে দেব।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের যুগ্মসচিব (অর্থ ও বাণিজ্য) ইয়াসমিন পারভীন তিবরীজি বলেন,এটা যদি অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূত হয়ে থাকে, তাহলে আমরা তদন্ত গ্রহণ করে ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য, এর আগেও ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রিনফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রি একইভাবে ১ হাজার বস্তা চায়ের অনিয়ম করেছিল। কিন্তু তখনও বাংলাদেশ চা বোর্ড ও ভ্যাট বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন ভূতুড়ে নিলাম বন্ধ করতে হলে স্বচ্ছ তদন্ত ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *