পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড় মুক্ত দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় মুক্ত দিবস। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ সংলগ্ন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়।

শনিবার সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরে শহীদদের স্মরনে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলী শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে শহীদ মিনারের সামনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান বলেন, পঞ্চগড়ের মুক্ত দিবস আমাদের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের এই চেতনাই নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড়ের সিভিলে সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম, পঞ্চগড় আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আদম সুফি, জজ আদালতের জিপি ও পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল বারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী

এসময় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পঞ্চগড়ের ইতিহাসের গৌরবের এই দিনে দেশ গঠনে যারা শহীদ হয়েছেন সে সব বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। তবে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া সড়কের অমরখানায় চাওয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ ভেঙ্গে দেওয়ায় পাকসেনারা তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি।

মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া ছিল পাক হানাদার মুক্ত। মুক্ত অঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া সব কর্মকাণ্ডের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পহেলা নভেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে আক্রমণ শুরু করে। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা মুক্ত হতে থাকে। পর্যায়ক্রমে পাক বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬ নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭ নভেম্বর পূর্ব তালমাসহ একই দিনে আটোয়ারী, মির্জাপুর, ধামোর, শক্রমুক্ত হয়। ২৮ নভেম্বর রাতে পাকবাহিনী পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও নীলফামারীর ডোমার হয়ে সৈয়দপুরের দিকে পিছু হটতে থাকে। আর এভাবেই ২৯ নভেম্বর ভোরে হা নাদার মুক্ত হয় পঞ্চগড়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *