বোদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ডাক্তার অনুপস্থিত, সেলাই করলেন ওয়ার্ড বয়

বোদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে ডাক্তার অনুপস্থিত, সেলাই করলেন ওয়ার্ড বয়

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা চলছে দায়সারা ভাবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনে স্বাস্থ্য সেবার চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পেয়ে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি গুরুতর আহত এক শিশুর হাতে সেলাই দিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়!

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে। আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের জুগিকাটা গ্রামের ফরহাদ হোসেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে যান বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের লতাপাড়া গ্রামে। এসময় তার ছেলে মেহেদি হাসান খেলতে গিয়ে কার্তি দিয়ে হাত কেটে ফেলেন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় কর্তব্যরত ওয়ার্ড বয় শহিদুল ইসলাম শিশুর আঙুলে দুইটি সেলাই দেন। প্রায় বিশ মিনিট পর স্বজনদের অভিযোগে সিভিল সার্জনকে জানানো হলে তড়িঘড়ি করে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোমেনা বেগম জনি হাসপাতালে পৌঁছান। এ ঘটনা ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

কালিবাড়ি এলাকার রোগী রঞ্জন বলেন, গলা ব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে এসেছি। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পেলাম না। জরুরি বিভাগে যদি চিকিৎসকই না থাকেন, তবে এখানে এসে লাভ কী?

অন্যদিকে সানজানা ইসলাম নামে এক অভিভাবক জানান, তার ছেলে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু ৪০ মিনিট অপেক্ষার পরও সেখানে কোনো চিকিৎসক পাননি।

মমতা নামে আরেক রোগী বলেন, ২০ মিনিট ধরে বসে আছি। ডাক্তার নেই। রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে একের পর এক ফিরে যাচ্ছে। এটা কেমন স্বাস্থ্যসেবা?

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক ডা. রোমেনা বেগম জনি বলেন, আমরা সেবা দিচ্ছি না তা নয়। আমার ছোট বাচ্চা থাকায় আধা ঘণ্টা দেরি হতে পারে। সাধারণত জরুরি রোগী এলে আমাকে জানানো হয়। কিন্তু সেদিন আমাকে কেউ ইনফর্ম করেনি।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুল কবীর বলেন, জরুরি বিভাগে ডাক্তার অনুপস্থিত ছিল এটা আমার জানা নেই। কোন চিকিৎসক ডিউটিতে ছিলেন তা খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। তবে ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার থাকার কথা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *