ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ নেতা ফরহাদ সিদ্দিকী। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুসুল্লিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফরহাদ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। বিগত দিনে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রায় প্রতিটি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষ হয়ে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনি প্রচারণাও চালিয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়-ফরহাদ সিদ্দিকীর কাজীপাড়া মৌলভী হাটি বাসভবনে আওয়ামী লীগপন্থী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরাও।
পোস্টের নিচে ফরহাদ সিদ্দিকী নিজেও মন্তব্য করেন-“একুশে ডিসেম্বর সন্ধ্যা বেলায় আমাদের বাড়িতে উঠান বৈঠকে যাহারা উপস্থিত হয়ে এই বৈঠককে সফল করেছেন, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা। নৌকার জয় হবে ইনশাআল্লাহ।”
সমালোচকরা অভিযোগ করছেন—আওয়ামী লীগের হয়ে দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করা ফরহাদ সিদ্দিকীকে এভাবে মসজিদের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আনা হয়েছে পরিকল্পিতভাবেই। যাতে মসজিদেও আওয়ামিলীগের রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ফরহাদ সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠরা দাবি করছেন, তিনি সমাজসেবায়ও ভূমিকা রাখেন এবং এজন্যই তাকে কমিটিতে নেয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে জেলা জুড়ে এক ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতেই তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
