মেহেরপুরে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন 

মেহেরপুরে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন 

“প্রাথমিক বৃত্তি নিয়ে বৈষম্য নয়, সাম্য চাই”-এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এ কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মেহেরপুর শাখা। মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মেহেরপুর শাখার সভাপতি জানে আলম।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া। কিন্তু  এই পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত না করায় একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী বঞ্চিত হচ্ছে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যের জন্ম দিচ্ছে। আমরা চাই সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক।

অন্য বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলেও একই বয়স ও স্তরের কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের বাইরে রাখা হচ্ছে, যা শিক্ষা আইনের মূল চেতনার পরিপন্থী। তারা মনে করেন, এটি শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দেয় এবং ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতার সুযোগকে সীমিত করে।

মানববন্ধন শেষে মেহেরপুর অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেন প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষা সার্বজনীন করার জন্য ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতিতেই বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা।পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমান মানদণ্ড প্রয়োগ। এ বিষয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কথা বলেন।

তারা বলেন, এই দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। যদি এই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নত হবে এবং প্রতিযোগিতা বাড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *