বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় এক নারীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় করা অভিযোগ তুলে নিতে বাদী এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদ এমদাদুলের বিরুদ্ধে।
এঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহীদ এমদাদুল রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে সরেজমিনে তদন্তের নামে উল্টো বাদী নাজমা বেগমকে শাসিয়ে গেছেন। ‘অভিযোগ তুলে না নিলে পরে সমস্যা হবে’ -এমন হুমকি-ধমকি দেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে থানায় গিয়ে মীমাংসার জন্য বাদী পক্ষকে আলটিমেটামও দেন তিনি। তবে এবিষয়ে এসআই শহীদ এমদাদুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনির হোসেন হাওলাদার মোটর-ভ্যান গাড়িতে কাঁচামাল বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের চৌমাথা বাজারে যান। কিছুক্ষণ পর একই এলাকার রফিক খানের ছেলে সোহেল দশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মনিরকে বেদম মারধর করা হয়।
এ সময়ে তাকে বাঁচাতে স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৮) এগিয়ে এলে, তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি দিয়ে মারাত্মক জখম করে সন্ত্রাসীরা।এ সময় ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মারাত্মক জখম করা সহ শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী নাজমা বেগম বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এবিষয়ে এসআই শহীদ এমদাদুল জানান, ‘তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন- ‘আপোস-মীমাংসার কথা বলেছি, কিন্তু কোনো ধরণের চাপ সৃষ্টি করার মতো ঘটনা ঘটেনি’।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম সোহেল রানা বলেন-‘ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি’।
