সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে অর্জন বলতে কিছুই থাকবে না: সালাহ উদ্দিন

সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে অর্জন বলতে কিছুই থাকবে না: সালাহ উদ্দিন

অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারলে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন বলতে কিছুই থাকবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের বিষয়ে আমরা সব দল একমত। এ বিষয়ে কারো কোনও দ্বিমত নেই। তবে বর্তমান সময়ের জন্য চ্যালেঞ্জ আছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হলেও নিজেদের মধ্যে গণতন্ত্রে প্রক্রিয়ায় উত্তরণের বিষয়ে হয়তো বা এখনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। সময় আছে, আশার করি এর ভেতরে আমরা আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবো।

সালাহ উদ্দিন আহমদ মনে করেন, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে সে অনুযায়ী কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সংবিধান সংশোধনের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ভিন্ন কোনও প্রক্রিয়ায় গেলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনী সংবিধান আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তিনি বলেন, শতাধিক সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। আমরা সবগুলো দল হয়তো সব বিষয়ে একমত হতে পারবো না। কিন্তু দেশের ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা একটা সমঝোতায়া পৌঁছাতে পারবো আশা করছি। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপাতদৃষ্টিতে ডাকসু নির্বাচন ফেয়ার হলেও সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি প্রদর্শন দেখা গেছে। এমনটা জাতীয় নির্বাচনেও যে হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনপূর্ব চ্যালেঞ্জের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনও ঠিক করতে পারিনি। প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নির্বাচন পক্ষে নেওয়ার বিষয় অনেকের মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলের মতো বিভিন্ন এজেন্সি এখনও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, তবে রাজনৈতিক দলগুলো যদি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি ও সদিচ্ছা নিয়ে অংশ নেয়, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। শুধু আইনকানুন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সুন্দর মন-মানসিকতা না থাকলে কার্যত কোনও সুফল মিলবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *