ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সভাপতি জমির জাল কাগজ তৈরি করে জমি নিজের বলে দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের মাটিয়ারপাড়া এলাকায়। ওই ওয়ার্ড সভাপতির নাম মইনুল ইসলাম। তিনি দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৩ নস্বর ওয়ার্ড সভাপতি।
দন্ডপাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজগড় আলীকে ম্যানেজ করে ভুয়া ওয়ারিশন কাগজ নেন৷ সে কাগজ নিয়েই আদালতে ভুয়া মামলা করেন মইনুল ইসলাম।
স্থানীয় লোকজন জানান, মইনুল ইসলামের ওয়ারিশন ও রাশেদুল হাসান খাঁনের ওয়ারেশনের সাথে কোন মিল নেই। দুই পরিবারে আয়ীত্বতারও সম্পর্কও নাই। তাহলে মইনুল ইসলাম কিভাবে জমি দাবি করে।
মাটিয়ারপাড়া এলাকার হায়দার আলী খাঁনের ছেলে রাশেদুল হাসান খাঁন জানান, ১৯৬২ সালে ২৫৫ খতিয়ানে ৯ একর ৮৫ শতক ও ২৯৮ খতিয়ানে ১৩ একর ৪১ শতক জমি আমাদের নামে রেকর্ড হয়। ২০০৮ সালেও আমাদের নামে পুনরায় আরএস খতিয়ান ভুক্ত হয়।
তখন থেকে ওই জমির খাজনা দিয়ে চাষাবাদ করে আসছি। ১৯৬২ সালে নিন্দালু মোহাম্মদের নামে কোন জমিই ছিলনা। জমি না থাকলে সে কিভাবে জমির মূলধনী হয়। সেটা কিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ারিশনের কাগজ দেন।
মইনুল ইসলাম ৪শ নম্বর দাগে ৮ শতক জমি থাকলেও সে প্রায় ১বিঘা জমিতে বাড়ি করে রয়েছে সে জমিও আমাদের। পর্যায়ক্রমে সে অন্যান্য দাগেও বাড়ি প্রসারিত করছে জমি দখল করার জন্য।
দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর দেয়া ওয়ারীশন সনদ অনুযায়ী জানা যায়, এই জমির মূলধনী ছিল মৃত হরে প্রধান। সেখান হতে ওয়ারিশ হন রাশেদুল হাসান খাঁন।
কাগজ পত্র যাচাই করে জানা যায় ও রাশেদুল হাসান খাঁন জানান, মাটিয়ারপাড়ার রাধানাথরায় মৌজার জমিতে দইফুল বেওয়া (খতেমন বেওয়া) নামের কোন ওয়ারিশ বা অংশ নেই। দইফুল নামে কোন ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকাতেও নাই।
এটা একটা কাল্পনিক নাম বলে জানান রাশেদুল হাসান খাঁন৷ তিনি বলেন, মইনুল ইসলাম জাল কাগজ তৈরি করে সে ২৫৫ খতিয়ানে ৪ একর ৯২ শতক ও ২৯৮ খতিয়ানে ৬ একর ৬২ শতক জমি নিজের বলে দাবি করে ২০১৬ সালের ৩১ মে আদালতে মামলা করেন। সে মামলার পরে ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর রাশেদুল হাসান খাঁন পুনরায় একটি মামলা করেন। সে মামলায় আদালত মইনুল ইসলামের বাড়ি বাদে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন। তারপরেও তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন৷ ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর রাশেদুল হাসান খাঁন দেবীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে আরেকটি মামলা করেন।
সে মামলায়ও বিরোধীয় জমিতে উভয়পক্ষকে স্থিতি বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেন। তখন মইনুল ইসলাম জেলা জজ আদালতে আপিল করেন। পরে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর আদালত সেখানে ১ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেন। এরপর পূর্নাঙ্গ শুনানীর পরে আপীলটি নামন্জুর করে নিম্ন আদালতে প্রেরন করে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ প্রদান করে৷
মইনুল ইসলাম বলেন, আমি ওয়ারিশ সূত্রে জমি দাবি করছি। রাশেদুল হাসান জাল কাগজ তৈরি করে আমার জমি দখল করার চেষ্টা করছে।