
সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ে পাথর ও বালুর ব্যবসার পরিধি দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতিদিন নদী থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে পাখর আর বালু। এরআগে নদী থেকে উত্তোলন করা বালু ট্রাকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। এখন ট্রাকের পাশাপাশি বালু ট্রেনে করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হচ্ছে। এতে করে সময়ও কম লাগছে আর পরিবহন খরচও কম পড়ছে ব্যবসায়ীদের।
ট্রেনে করে বালু পরিবহনের জন্য পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বালু ট্রেনে করে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে। ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।পরিবহন ব্যবসা আধুনিকায়ন হলে পঞ্চগড়ের অর্থনীতি যোগ হবে দেশের মূল অর্থনীতির সাথে।
এক সময় ট্রাকে করেই পরিবহন করা হতো বালু। কিন্তু সড়ক পথে যানজট, রাস্তায় বিভিন্ন সংগঠনের নামে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা, তার সাথে পুলিশের চাঁদাবাজি, ট্রাকের ভাড়া বেশি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, রাস্তা খালখন্দসহ নানা সমস্যার কারনে ব্যবসায়ীরা বিকল্প যানবাহন হিসেবে ট্রেনকেই বেছে নেন।
পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ঢাকা, গাজীপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে বালু। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন নির্মানেও এসব বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায়
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন নদীর পাশে বালুর পয়েন্ট থেকে মহেন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে বালু এনে রেলওয়ে ষ্টেশনে স্তুপ করে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে ট্রেনের বগিতে বালু তোলা হয়।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা জানান, একটি ট্রাকে বালু পাঠাতে খরচ হয় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার। সেখানে একই পরিমান বালু ট্রেনে করে পাঠাতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ট্রাকে করে সময়ও বেশি লাগতো আর ট্রেনে করে সময়ও কম লাগে। এতে আমাদের কম খরচে লাভ বেশি হচ্ছে। ট্রেনে বালু সরবরাহ করার কারনেই অন্যান্য অঞ্চলের বালুর চাহিদা পুরন করা সম্ভব হচ্ছে।
ট্রেনে বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে সব চেয়ে সুফল ভোগ করছে শ্রমিকরা। তারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখছে, সেখান থেকে ট্রাকে লোড করছে। ট্রাক থেকে ষ্টেশনে আনলোড করা হচ্ছে। তারপর ট্রেনে তোলা হচ্ছে। এসবই করছে শ্রমিকরা। ফলে তারা লাভবানও হচ্ছে। বালু শ্রমিক আব্দুস সালাম জানান, আগে আমাদের বেশির ভাগ সময়ই কাজ থাকতো না। এখন সারা বছরই কাজ থাকে। এতে আমাদের আয় বেড়েছে।
শ্রমিক সংগঠনের ট্রাক চালক শাখার এক নেতা জানান, ট্রাক লোড করার পরে অনেক সময় চালকরা যেতে চায়না আবার অনেক সময় চালক পাওয়া যায়না, আবার অনেক সময় ট্রাক পাওয়া যায়না। এজন্য ব্যবসায়ীরা ট্রেনে করে বালু পরিবহন করছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার মাসুদ পারভেজ জানান, ট্রেনে করে বালু পরিবহনের কারনে মালবাহী ট্রেনের চাহিদা বেড়েছে। একটি ট্রেনে নিদিষ্ট সময়ে ৩০ টি বগিতে বালু পরিবহন করা যায়। ট্রেনে বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে কোন ঝামেলা নাই। তাই ব্যবসায়ীরা আমাদের উপর আস্থা রাখছে। তিনি আরও বলেন, আমরা ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আরও নতুন বগি সংযোজন করবো।