ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে খুনিরা জামিনে ফিরে আসার পর থেকে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিহত আবুল হোসেনের (৬০) পরিবার দিন-রাত ভয়ে আতঙ্কে কাটাচ্ছে। ঘর থেকে বের হলেই খুনিদের চোখে চোখ পড়ছে-প্রতিবারই বুক কেঁপে ওঠে।
গত বছরের ১৬ জুন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নৃশংসভাবে খুন হন আবুল হোসেন। সেই হত্যা মামলার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্বজনদের অভিযোগ-আসামিরা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে, ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে, কখনও হুমকি দিচ্ছে, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কটূক্তি করছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকালে নিহতের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবুল হোসেনের স্ত্রী। তিনি বলেন—
“এক বছর আগে দিনের বেলায় আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে খুনিরা। আজ তারা জামিনে এসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি খুনিদের চোখে চোখ রেখে কিভাবে বাঁচব? সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছি। বিচার তো পাইনি, উল্টো আমাদের হয়রানি করছে। আমার এক ছেলে দুইবার জেল খেটেছে।”
আবেগঘন কণ্ঠে নিহতের মেয়ে মুক্তা আক্তার বলেন—
“আসামিরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। আমাদের দেখে হাসাহাসি করে, বলে— ‘আমাদের কিছু করতে পারবে না।’ ফেসবুকে আমাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করে। আমরা অসহায়।”
সবার সামনে দাঁড়িয়ে চোখ মুছতে মুছতে কথা বলে নিহতের ১০ বছরের ছেলে নাসির বাদশা। সে কাঁদতে কাঁদতে বলে—“আমার বাবার খুনিদের সামনে দেখতে খুব খারাপ লাগে। আইন যেন আমার বাবার খুনিদের শাস্তি দেয়।”
এই শিশুর আর্তনাদ শুনে উপস্থিত সবাই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।
এ বিষয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রুবেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুন মাসে ঈদুল আযহায় কোরবানির পশু কেনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী সামাদ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়াসহ কয়েকজন আবুল হোসেনের ছোট ভাই আবু সাঈদকে উপহাস করে। বিষয়টি জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের লোকজন আবুল হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।