ভাইয়ের কাছ থেকে পিতার সম্পত্তির অংশ পেতে প্রায় ৫ বছর থেকে আদালতে মামলা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ, থানায় অভিযোগ সবই করেছেন ৫ বোনেরা। সম্পত্তির অংশ আজও পাননি। প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় পাঁচ বোন। তারা হলেন ফাতেমা বেগম, জাহানারা বেগম, সুরমা বেগম, নূরী বেগম, নাছিমা পারভীন।
সম্পত্তির অংশ পেতে পাঁচ বোনের মধ্যে জাহানারা বেগম বাদী হয়ে গত ৫মে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়ে ছিলেন। মাসের পর মাস ঘুরেও তিনি প্রতিকার পাননি। ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ি মহকুমার
মেখেলীগঞ্জের অন্তগর্ত ১নং সীট ভুক্ত। বর্তমানে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ মৌজার তালুক দহলা খাগড়াবাড়ির জেএল নং১০১ এর ১নং সীট ভুক্ত। যার সাবেক খতিযান নং ৬৫০, দাগ নং ১৬৭২ হতে ১৬৮০। ১৯৫২ হতে ১৯৫৪।১৯৭৯ হতে ১৯৭৮। ১৯৮০, ১৯৮২ হতে ১৯৮৬। যার আরএস দাগ নম্বর হলো ৮৪৩৫ হতে ৮৪৩৭ পর্যন্ত মোট সাবেক দাগ সমুহে এবং আর এস দাগে ৫ একর জমির দাবি করে আবেদন করেছেন তারা।
তার তিন ভাই মহিদুল ইসলাম, মাহাবুর রহমান ও মশিয়ার রহমানের নামে অভিযোগ দেন। তারা দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের ইউনিয়নের উপেনচৌকি ভাজনীর ভাউলাপাড়া এলাকার মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে। বর্তমানে তিন বোন ফাতেমা বেগম, জাহানারা বেগম ও নাছিমা পারভীন বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেয়া লিখিত অভিযোগে জানা যায়, তাদের পিতা মারা যাওয়ার পর প্রায় ৭০ বিঘা জমি রেখে যান। সে জমির তিন ভাই ও পাঁচ বোন ওয়ারিশ সুত্রে পৈত্রিক সম্পত্তির মালিক হন। মারা যাওয়ার পর পাঁচ বোন তাদের পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিস্যা মোতাবেক পাঁচ বোন জমির ভাগ বাটোয়ারা করে দিতে বলেন। তখন তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। মারপিট করার হুমকি দিয়ে জমির অংশ দিবেনা মর্মে জানিয়ে দেয়। ২০ এপ্রিল সকালেও তারা ভাইদের কাছে গিয়ে জমির অংশ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। তখনও তারা জমির ভাগ দিবেনা জানিয়ে দেয় আর বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। অভিযোগ দেয়ার পর মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও প্রতিকার পাচ্ছেনা তারা।
এর আগেও তিন ভাইয়ের নামে জাহানারা বেগম দেবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেখানে অভিযোগ করেছিলেন যে ৩১ জুলাই ২০১৫ তারিখে ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তফসিল বর্নিত জমি তিন ভাই তাদের নামে আরএস খতিয়ান ভুক্ত করে নেন। সেটা বাতিল করার জন্য অনেক চেষ্টা করি কিন্তু ভাইয়েরা টাকার বিনিময়ে আরএস খতিয়ানটি বহাল রাখে। আদালতে এনিয়ে মামলাও করি। কিন্তু তারা টাকার বিনিময়ে জটিলতা সৃষ্টি করছে।
২০ আগষ্ট দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়। সেখানে ভাইয়েরা ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিমাংসা করে দেয়ার জন্য সময় নেন। ১৩ সেপ্টেম্বরের পরে তারা মিমাংসা না করলে ১৪ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন।
জনহানারা বেগম জানান, ৫ ফেব্রুয়ারী ১৯৮১ সালে ৪৭১ নং কবলা দলিল মূলে মালিকানা হই। সে জমি তাদেরকে চাষাবাদ করে খাওয়ার জন্য বর্গা দেই। কয়েক বছর ফসলের ভাগ দিলেও পরে আর দিচ্ছেনা। গত বছরের ১৭ আগষ্ট জমিতে গিয়ে জমির ভাগ চাইলে তারা গালিগালাজ করে মারমুখী আচরন করে।
মহিদুল ইসলাম ও মশিয়ার রহমান জানান, আমরা বোনের সম্পত্তির অংশ দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। তারা যদি এখন নিতে চায় নিতে পারবে। তবে জমির আগে মালিকানার কাগজ করতে হবে। এজন্য দেরি হচ্ছে।