সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫২ পূর্বাহ্ন
Title :
জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় বাড়লো ১ ঘণ্টা ঠাকুরগাঁওয়ে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা পঞ্চগড়ে এসপির সাথে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা এনসিপিসহ তিন দলের সমন্বয়ে নতুন জোট, বিকেল ৪টায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন, নির্ধারিত হতে পারে তফসিলের তারিখ শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়াল আজ থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে সরকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী চক্রের উত্থান: বিদেশি সংযোগের অভিযোগে নতুন আলোচনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১৯ Time View
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী চক্রের উত্থান: বিদেশি সংযোগের অভিযোগে নতুন আলোচনা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আওয়ামীপন্থী প্রভাবশালী চক্রের উত্থান: বিদেশি সংযোগের অভিযোগে নতুন আলোচনা

কাজীপাড়া ও বনিকপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক প্রভাবশালী চক্রের আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন মানিক বনিক, তাঁর ছেলে রাজীব বনিক (বাসন), এবং দুই ভাতিজা সুধীপ বনিক (শান্ত) ও সরূপ বনিক। অভিযোগে উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশাসনিক যোগাযোগের সুবিধা প্রয়োগ করে তারা এলাকায় ভয়-দমনের পাশাপাশি অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে।

৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত মানিক বনিক স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে এলাকার প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ওই নেতারা ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। আর এসব অবৈধ আয় থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়মিতভাবে তার কাছে পৌঁছে যেত বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই-সব রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ছত্রছায়ায় মাদক ও জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করত মানিক বনিকের পরিবারের সদস্যরা।

সুধীপ বনিক (শান্ত)-এর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার জি.আর. মাদক মামলা নং ৬৮২/২০২০, যা বর্তমানে অতিরিক্ত দায়রা ও জজ, তৃতীয় আদালত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এর নিকট দায়রা মামলা নং ৭১১/২০২১ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে। সে জামিনে মুক্তির পর তিনি আবারও আওয়ামী লীগের ছায়ায় মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি দেশ থেকে পালানোর উপায় খুঁজছেন।

রাজীব বনিক (বাসন), কাজীপাড়া ৮নং ওয়ার্ড থেকে আওয়ামী লীগের কমিশনার পদে সফলভাবে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছেন—স্থানীয়দের অভিযোগ, পিতার রাজনৈতিক পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট চুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিছু সূত্রে তাকে প্রশাসনিক যোগাযোগকেও কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

‘ঝলক শিল্পালয়’ পরিচালনা করে বলে পরিচিত সরূপ বনিকের নামেও অভিযোগ উঠেছে— এই স্থানের কয়েকটি আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম ও সোনা চোরাচালান সাথে জড়িত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলক শিল্পালয় থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বাজারে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল |

চক্রের আরও যারা জড়িত বলে বলা হচ্ছে তাঁদের মধ্যে রয়েছে— সুজন ঘোষ ও আরও কয়েকজন। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জুয়া, সোনা চোরাচালান ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিরুপায় করা।

সুত্রে জানা যায়, এই চক্রের কিছু সদস্যের দেশের বাইরে—বিশেষ করে কলকাতায় বিদেশি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তারা এসব সংযোগ ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন, চক্রটির সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমন্বিত হতো— যা হলো ছন্দা স্টুডিও (গোকর্ণ রোড, সাবেরা সোবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে), সুজন সেলুন (কালীবাড়ি মোড়), ঝলক শিল্পালয় ( টান বাজার) |

প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী এসব স্থানে রাজনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি, আর্থিক লেনদেন, মাদক পাচার, যোগাযোগ ও কার্যক্রম সমন্বয় ঘটত।

গোপন সূত্রে আরো জানা গেছে, স্টুডিও ছন্দা থেকে নিয়মিতভাবে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পলাতক আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে শহরের রাজনৈতিক তথ্যের আদান-প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেকোনো সময় অস্থিতিশীল ও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আওয়ামীপন্থী রাজনৈতিক ছায়ায় বেড়ে ওঠা একটি অপরাধচক্র যদি তাদের কার্যক্রম আরও করে, তবে শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তারা প্রত্যাশা করছেন—নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিব আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে। যদি এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। তবে এসব অপকর্মের সাথে যাতে করে কেউ জড়িত না থাকতে পারে তারা আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2023 onenewsbd24.com
Developed by: FAZLY RABBY
Tuhin