
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বদেশ্বরী বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে সর্দারপাড়া এলাকায় প্রায় ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। এসব গাছ দেবীগঞ্জ রেঞ্জের বদেশ্বরী বিটের আওতাধীন। সেখান হতে প্রায় ১৫টি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। একেকটি গাছের মূল্য প্রায় গড়ে ১৫ হাজার টাকা করে। প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের এসব গাছ বিক্রির টাকা থেকে বিট কর্মকর্তা সোহেল সরদার সাব্বিরের কমিশন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল করিম সংশ্লিষ্ট ওই বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না দিয়ে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, তাকে ম্যানেজ করেই এসব গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে মাসের পর মাস কর্ম এলাকায় যাননা। এলাকায় অবস্থান না করায় প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য গাছ, ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, আমরা এলাকায় কখনও বিট কর্মকর্তাকে দেখি না। তিনি সব সময় দেবীগঞ্জ রেঞ্জ অফিসে অবস্থান করেন। সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। সারা দিন বসে দিন পার করেন।
বসে বসে সরকারের বেতন উত্তোলন করেন। দিনের বেলা ও রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নিয়ে যায়। যারা গাছ কেটে নিয়ে যায় তাদের সাথে বিট কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে। যার কারনে প্রায় দিনই এখানে গাছ কাটা হয়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করে জানান, এসব গাছ চুরির সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। বড় বড় আকৃতির অসংখ্য গাছ কেটে ফেলার পরও বন বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের নামে মামলাও করা হয়না। এতে করে বনাঞ্চল ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণের রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। গাছ কেটে নেয়ার পর এলাকা জুড়ে পড়ে আছে কাটা গাছের গুড়ি ও শিকড়ের অবশিষ্টাংশ।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জের বদেশ্বরী বিট কর্মকর্তা সোহেল সরদার সাব্বির জানান, আমি রেঞ্জ অফিসে থেকেও বিট এলাকায় যাচ্ছি। যারা গাছ কাটতেছে তাদের কে খঁজে বের করে তাদের নামে মামলা দিবো।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা মন্জুরুল করিম জানান, বিট কর্মকর্তা যোগদান করার পর থেকেই বর্তমান পর্যন্ত রেঞ্জ অফিসে অবস্থান করতেছে। আমি বিট কর্মকর্তাকে মৌখিক ভাবে নির্দেশ দিয়েছি তাকে বিট এলাকায় থাকার জন্য।