
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যদি কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স নষ্ট হয়, হারিয়ে যায় বা জোরপূর্বক অপসারণ করা হয়, তাহলে সেই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অবিলম্বে বন্ধ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসাররা স্থানীয়ভাবে ভোটগ্রহণের সময়সূচি প্রচার করবেন এবং নির্বাচন নিশ্চিত করবেন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ২৪ অনুযায়ী।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হবে। একইভাবে, ব্যালট বাক্স জোরপূর্বক অপসারণ, নষ্ট বা হারিয়ে গেলে অথবা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যে ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়—সে ক্ষেত্রেও ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকবে।
যেখানে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হবে, সেই কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নতুন দিনে পুনঃভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া, কোনো কেন্দ্রের ফলাফল ছাড়া নির্বাচনি এলাকার ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে কমিশন পুরো কেন্দ্রের জন্য পুনঃভোট গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারবে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সব ভোটার নতুন দিনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব না হয়, তাহলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে ভোটগ্রহণসহ পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
পরিপত্রে ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোর দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।