
নির্বাচনী প্রচারনা করে ভোট চাচ্ছেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফির স্ত্রী এমন সন্দেহে তার ব্যবহার করা গাড়ি আটকে দিয়েছে বিএনপির সমর্থিত লোকজন। এমন ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়নের বাগদহ বাজারে।
শনিবার দুপুরে বাগদহ বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটার সাথে সাথে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, দেবীগঞ্জের ক্যাম্পের সেনাবাহিনীর সদস্য ও দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হন।
জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মী মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল জানান, ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফির স্ত্রী বাগদহ বাজারে নুরুল ইসলামের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসে। নুরুল ইসলামের স্ত্রী ও সফিউল্লাহ সুফির স্ত্রী বান্ধবী। সে সুত্র ধরে সফিউল্লাহ সুফির স্ত্রী তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসে। তিনি বাড়ির রাস্তা চিনতে না পারায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর লোকজনকে রাড়ির রাস্তা দেখিয়ে দিতে বলেন। পরে সেখানে আরও কয়েকজন কর্মী উপস্থিত হন। এমন সময় বিএনপি সমর্থিত রবি, বিপেন, ডালিম ও মাহতাবসহ কয়েকজন লোক সন্দেহ করেন তারা ভোট প্রার্থনা করছেন আর নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন। এ সন্দেহে তারা সফিউল্লাহ সুফির স্ত্রীর ব্যবহার করা গাড়ি আটকে দেন।
এঘটনার সময় মনিরুল ইসলাম নামের জামায়াত সমর্থিত এক ব্যক্তি ভিডিও করার সময় তার মোবাইল ফোন বিএনপির সমর্থিত লোকজন ছিনিয়ে নেন। মনিরুল ইসলাম জানান, আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে আমার ভারি রড দিয়ে প্রচন্ড মারধর করে। জামায়াতে ইসলামীর চেংঠী হাজরাডাংগা ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের এক কর্মী মারধরোর শিকার হন। বিএনপির সমর্থিত লোকজন জানান, বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারনা বন্ধ রয়েছে। তারপরেও জামায়াতে ইসলামীর লোকজন বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন আর নির্বাচনী প্রচারনা চালাচ্ছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর স্ত্রী বাগদহ বাজারে এসে ভোট চাচ্ছেন এমন খবর জানতে পেরে আমরা সেখানে হাজির হই। পরে তারা আমাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫/৬ কর্মী আহত হন। পরে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ৩ জন সদস্য ও বিএনপির ৩জন সদস্যের সাথে বৈঠক করেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি জানান, সকালে চেংঠী ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় উঠান বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুফিউল্লাহ সুফি। তাই আমরা বাগদহ বাজারে সুফির স্ত্রী ও কিছু নেতাসহ উঠান বৈঠক এর যাওয়ার পথে আমরা গাড়িটা থামিয়ে কথা বলি। নির্বাচনী আচরণ বিধি না মেনে কেন উঠান বৈঠক করতেছে। পরে জামায়াতের এক লোক ভিডিও করলে তার মোবাইলটা নিয়ে আরেকজন হুজুরের কাছে দেই।
জামায়াতের এক কর্মী এসে বলে মোবাইল কে নিয়েছে এবং বিএনপির কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্থায় ফেলে দেয়।তার পরে জামায়াতের ইসলামের অনেক নেতা কর্মী এসে বিক্ষোভ মিছিল করে। পঞ্চগড় ২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ এর নির্দেশে আমরা তাদেরকে কিছু বলি নাই। তা না হলে জামায়াতের কোন কর্মী এখান থেকে যেত পারত না। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান ও সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে আমাদের মধ্যে সমাধান করে দেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি লুৎফর রহমান জানান, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুফিউল্লাহ সুফি তার সহধর্মিণীর আত্বীয় বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার যাওয়ার সময় বিএনপির নেতা কর্মীরা গাড়ি আটক করে গালিগালাজ ও মারধর করে। এবার প্রথম নয় এর আগেও চেংঠীতে আমাদের কোন প্রোগ্রাম করতে দেয় না বিএনপি বাধা দেয়।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না। তাই আমরা মিলেমিশে ভোট করতে চাই জনগণ যাকে ইচ্ছা ভোট দিবে।
পরে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, সেনাবাহিনী পুলিশ এসে দু পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে দেয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, জামায়াত এবং বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষ লাগে আমরা খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ এখানে আসছি।দু পক্ষের নেতা নিয়ে বসে সমাধান করে দেই।এর কোন অভিযোগ থাকলে প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন।কেউ আইন হাতে তুলে নিবেন না।