
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর নির্মাণাধীন ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২ এ পৌঁছেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয় এবং একটি বগিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মালিওয়ান নাকথন বিবিসি থাইকে বলেন, “পুরো ঘটনাটি এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটে যায়।” তিনি জানান, প্রথমে কংক্রিটের টুকরো পড়তে শুরু করে, এরপর ধীরে ধীরে ক্রেনটি নিচে নেমে এসে ট্রেনটিকে আঘাত করে। থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, “এ ধরনের দুর্ঘটনা মূলত দায়িত্বে অবহেলা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিভিন্ন ধাপ এড়িয়ে যাওয়া, অবকাঠামো নির্মাণের মূল নকশা থেকে বিচ্যুতি বা ভুল উপকরণ ব্যবহারের ফলেই ঘটে।”
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে ১৭১ জন যাত্রী ছিলেন। ক্রেনটি কয়েকটি বগি চূর্ণ করে দেয়, যার একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। আহত ৬৬ জনের মধ্যে এক বছরের একটি শিশু ও ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধও রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ক্রেনটির দায়িত্বে থাকা ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেও এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ১০ কোটি বাথের বেশি ক্ষতির জন্য প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানান, ক্রেনটি ভেঙে পড়ার সময় তারা বাতাসে ছিটকে পড়েন। ট্রেনের কর্মী থিরাসাক ওংসংনার্ন বলেন, কাঠামোটি আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা তীব্র ধাক্কা অনুভব করেন এবং একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয়।
ব্যাংকক থেকে লাওস পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনের জন্য চীন-সমর্থিত একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই উড়াল রেলপথ নির্মাণে ক্রেনটি ব্যবহৃত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে থাইল্যান্ডে একাধিক প্রাণঘাতী নির্মাণ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য নিরাপত্তা বিধি দুর্বলভাবে প্রয়োগকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা।