পঞ্চগড়ে রবি ব্র্যান্ড প্রোমোটরদের বিরুদ্ধে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে সিম না দেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পঞ্চগড় সদর থানায় মুনিরা নামে এক নারী থানার ওসির বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে পঞ্চগড় বাজারের বকুলতলা এলাকার রবি সিম ডিস্ট্রিবিউটর বর্ডার টাউন হাউস-এর টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসান এবং ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জাহিদ হাসানের নির্দেশে সাজু ও হাবিব সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় মুনিরাকে ফ্রি সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখান। এ সময় তারা মুনিরার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিলেও ‘ম্যাচ না হওয়া’র অজুহাতে সিম সরবরাহ করেননি। পরে ওই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে মুনিরার নামে একটি সিম সক্রিয় করা হয়, যার মাধ্যমে একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই বিকাশ অ্যাকাউন্টে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বালু সরবরাহের অগ্রিম হিসেবে ১৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি ফতুল্লা থানায় সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ কয়েকটি রবি ও এয়ারটেল নম্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি পরে পঞ্চগড় সদর থানাকে অবহিত করা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরুতে মুনিরা সিম ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি জানান, রবি কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রোমোটর সাজু ও হাবিব ফ্রি সিম দেওয়ার কথা বলে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো সিম হাতে দেননি। মুনিরার ভাষায়, আমার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। আমি কোনো টাকা লেনদেন করিনি।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একই কৌশলে কামারপাড়া এলাকার আরও কয়েকজন নারীর কাছ থেকেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, ফুলতলা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। অনলাইনে কম দামে বালু-পাথর সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার দাবি, সম্প্রতি আরিফ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া চালান দেখিয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টেরিটরি ম্যানেজার জাহিদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ব্র্যান্ড প্রোমোটর হাবিব চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং সাজু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। তবে সিম অ্যাক্টিভেশন সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিতে তিনি অসম্মতি জানান। তার ভাষায়, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, সিম সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রতারণার অভিযোগে মুনিরা নামে এক নারী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।