ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা তরুণীসহ দুইজন আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা তরুণীসহ দুইজন আটক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসপোর্ট করতে এসে এক রোহিঙ্গা তরুনীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ভাই পরিচয় আসা ইমন মিয়া (১৮) নামে আরো এক যুবককে আটক করা হয়। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদের আটক করা হয়েছে। আটক হাজেরা বেগম (১৭) কক্সবাজার জেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুক্তার আহমদের মেয়ে। এছাড়া ভাই পরিচয়ে আটক ইমন জেলার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুরা এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, জেলার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে ঈমান মিয়া রোহিঙ্গা তরুণী হাজেরা বেগমকে জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউপির ঘোষপাড়া গ্রামের কালন মিয়ার মেয়ে সুফিয়া আক্তার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে নিয়ে আসেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানের সন্দেহ হলে ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুপুরে রোহিঙ্গা এক তরুণী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে আসে। তার বয়স ১৮ এর নিচে হওয়ায় তার অভিভাবক মা-বাবাকে সাথে নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু এই তরুণীকে অভিভাবক আনতে বললে সে অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা বলে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পাসপোর্ট করতে কাগজপত্র নিয়ে আসলে দেখা যায় তার জন্মনিবন্ধন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে করা। তবে জন্মনিবন্ধনে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউপির ঘোষপাড়া গ্রামের কালন মিয়ার মেয়ে সুফিয়া আক্তার। এছাড়া সরাইল কালিকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সত্যায়িত কাগজপত্রও রযেছে। পরে তার কথাবার্তায় অসঙ্গতিপূর্ণ লক্ষ্য করা যায়। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় সে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের। তার আসল নাম হাজেরা বেগম।

তিনি আরো জানান, একটি প্রতারক চক্র তাকে পাসপোর্ট করিয়ে দিয়ে দিবে বলে তাকে পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে আসে। পরে রোহিঙ্গা তরুণীকে আটক করার পরে ইমন মিয়া নামে একজন ভাই পরিচয়ে আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দেখা যায় পাসপোর্ট তৈরীর ক্ষেত্রে যোগসাজস রয়েছে তার। পরে দুজনকে আটক করে পুলিশে সুপর্দ করা হয়।

তিনি আরো জানান, পাসপোর্ট অফিসে যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্ট করা হয়। কোন ভাবে কোন রোহিঙ্গা বা অসাধু কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *