
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করতে যাওয়ার সময় বাধা দেন অবৈধ ইট ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা। উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়া কর্মকর্তাদের উপর মালিক ও শ্রমিকদের হামলা আর বাধার কারনে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান ভেস্তে যায়।
অভিযানে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯ জানুয়ারী দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়ের হওয়ার পরে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও যৌথবাহিনীর অভিযানে তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতেই অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুজন্ত কুমার রায় বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। ১৯ জানুয়ারী রাতে দেবীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাটি মামলা নম্বর ৯। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামী করা ৩ শতাধিক।
গ্রেপ্তারকৃতরা হল দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী হাকিমপুর এলাকার মৃত আব্দুল হকের ছেলে আমিনুল হক (৪৮), একই এলাকার ময়েন উদ্দীনের ছেলে মোসলেম উদ্দিন (৩৮) এবং মৌমারি হাকিমপুর এলাকার সোলেমান শেখের ছেলে শাহিনুর ইসলাম (৩৮)।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯ জানুয়ারী সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পঞ্চগড় জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী, দেবীগঞ্জ থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অভিযান পরিচালনা করতে যান। দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জের মৌমারি ও শিমুলতলী এলাকায় ৩টি অবৈধ ইট ভাটা রয়েছে। তারা অবৈধ ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইট প্রস্তুত ও বিক্রি করতো। ঘটনার দিন প্রশাসনের লোকজন অনুমোদনবিহীন অবৈধ এসব ইটভাটা উচ্ছেদের জন্য
মৌমারি বাজারে এসে পৌ়ছলে ইট ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মৌমারি বাজারে এসে জড়ো হন। সেখানে তারা রাস্তা অবরোধ করে অভিযানে বাধা দেন। সরকারি কাজে বাধা দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ করায় জনগনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। তাদের বাধার কারনে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা না করেই চলে যেতে বাধ্য হন।
সরকারী কাজে বাধাদানের অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা হওয়ার পরে এজাহার ভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা বাকি আসামীদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে বলে জানান দেবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার। তিনি আরও বলেন ইতিমধ্যে তিনজনকে আটকও করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী জানান, সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে তিন আসামীকে আটকও করা হয়েছে। অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।