ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের একটি নতুন কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী জুলাই থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের ২৫টি উপজেলা ও থানার মোট ৩ হাজার ৫২২টি বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এ সুবিধার আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় পোশাকের রং, নকশা, জুতার ধরন এবং পাটের তৈরি ব্যাগের নমুনাও উপস্থাপন করা হয়। এতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা, শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এতে সহযোগিতা করছে। বিজিএমইএ ইতোমধ্যে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য পোশাক সরবরাহে আগ্রহ দেখিয়েছে।
এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে বিস্তারের পরিকল্পনা
প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবে। পরবর্তীতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, বেসরকারি স্কুল এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কী পাবে শিক্ষার্থীরা
পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক শিক্ষার্থী প্রতি শ্রেণিতে এক সেট ইউনিফর্ম, একজোড়া জুতা এবং একটি স্কুলব্যাগ পাবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক সেট দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
নির্ধারিত ইউনিফর্ম
শিক্ষার্থীদের জন্য একক নকশার পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। ছেলেদের জন্য হালকা নীল শার্ট ও গাঢ় নীল হাফপ্যান্ট এবং মেয়েদের জন্য আকাশি রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। সবার জন্য সাদা জুতা ও মোজা থাকবে। ব্যাগ তৈরি হবে পাট দিয়ে, যাতে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ে।
নির্বাচিত এলাকায় বাস্তবায়ন
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাচিত ২৫টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হবে। প্রথম শ্রেণির প্রায় ৯৯ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হবে, যার মধ্যে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান।
সরকারের আশা, পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্যই এ সুবিধা সম্প্রসারণ করা যাবে।

