ওয়ান নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলেও ইরান কখনো তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। গত বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ ও ‘আল জাজিরা’-র প্রতিবেদনে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের তথ্যটি সামনে আনা হয়েছে। তেহরানে এক সরকারি ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ কখনোই কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র বা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়; তবে কেউ যদি মনে করে ইরানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, সার্বভৌম ভূখণ্ড ও পবিত্র মাতৃভূমিতে একের পর এক আঘাত করে আমাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে বা পিছু হটানো যাবে, তবে সেটা হবে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক ভুল। এই সময় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের উদাহরণ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, গত তিন বছর ধরে অত্যাধুনিক সব পরাশক্তি মিলেও যেখানে একটি ছোট্ট উপত্যকার মানুষকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারেনি, সেখানে সামরিকভাবে শক্তিশালী তেহরানকে পরাজিত করার স্বপ্ন দেখা সম্পূর্ণ অসম্ভব।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানের সামরিক নজরদারি চৌকি ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালানোর পর দুই দেশের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায় পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার গভীর রাতে ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ সবুজ সংকেতেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব। এদিকে মার্কিন এই বিমান হামলার তাৎক্ষণিক জবাবে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি-ও। তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, তারা ইতিপূর্বেই বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কুয়েতের সামরিক অবস্থান এবং জর্ডানের ‘আল-আজরাক’ মার্কিন বিমানঘাঁটির মূল কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন ও শক্তিশালী দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন এক সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধের দামামা বাজছে।

