ওয়ান নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে তেহরান অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেছে ইরানের কট্টরপন্থী সাধারণ মানুষ। গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান গোপন আলোচনার রূপরেখা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে টেলিভিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পরপরই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র শহর মাশহাদে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এই প্রতিবাদ জানান। বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ (Fars News) সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা আরাগচিকে ‘অনুপ্রবেশকারী ও বেঈমান’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করছেন; যেখানে মূলত ক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যে, এই চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’-র ওপর ইরানের যে একক সামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তেহরান হারাতে যাচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ রোববার (১৪ জুন) একটি ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার আগাম ঘোষণা দিলেও, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে—যার ফলে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই মূলত কট্টরপন্থী ইরানিরা এখন রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।

