ওয়ান নিউজ ডেস্ক: উপমহাদেশের সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ জুলাই) এক বাণীতে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯২১ সাল থেকে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার ওপর জোর দেন এবং এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের উপযোগী ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহারিক শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ বাড়ানো জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ, উদ্ভাবনী কার্যক্রমে জোর দেওয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সফল সাবেক শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) অর্থবহ পৃষ্ঠপোষকতায় যুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। পরিশেষে, বৈশ্বিক কর্মসংস্থানে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অর্জন, নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত হওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং চাকরি খোঁজার মানসিকতা বদলে ক্যাম্পাস জীবন থেকেই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

