ওয়ান নিউজ ডেস্ক: সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার মেয়াদ এবং ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা রোধে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে তিনি এই তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, যথাযথ ব্যয় প্রাক্কলন না করা, ক্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মনিটরিং ও জবাবদিহির অভাবের মতো একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে প্রকল্পগুলোতে এই সমস্যা তৈরি করে। এই প্রবণতা ঠেকাতে সরকার নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিশ্চিত করা, বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত করা এবং প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকাগুলো সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকি জোরদার করতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো, এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পগুলোর বিলম্বের কারণ পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি সম্পন্ন প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা বিবেচনা করে সেগুলো পুনর্বিন্যাস বা স্কোপ পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণের পরিবর্তে সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে যোগ্যতা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব প্রদান, পিপিপি মডেলে প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহ এবং সরকারি ক্রয়কে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

