মেহেরপুরের কলেজ মোড় এলাকায় ফ্যাসিবাদবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। ইতিহাসের অমর শহীদদের স্মৃতিকে চিরভাস্বর রাখতে সোমবার সকাল ১০টায় এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহেনাজ।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিতব্য এই স্মৃতিস্তম্ভটি আগামী ৫ আগস্ট, ফ্যাসিবাদ পতনের দিনে, শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে আশা করছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক সিফাত মেহেনাজ।
তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সারাদেশেই একই নকশায় নির্মিত হচ্ছে এই স্মৃতিস্তম্ভ। এটি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, একটি সময়ের সাক্ষ্য, একটি আন্দোলনের শক্তি।”
জানা গেছে, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। নকশাটি করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থাপত্য বিভাগ, যা ইতোমধ্যেই উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে। মেহেরপুরে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা ১৮ ফুট, বেজ ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ব্যাস ৬ ফুট।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রফিকুল হাসান জানিয়েছেন, স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করে তুলে ধরা হবে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার মুখে উচ্চারিত স্লোগানসমূহ-যা ছিল প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা। এ স্লোগানগুলোই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে সেই সাহসী লড়াইয়ের ইতিহাস।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগন। তারা বলেন, “আমরা আনন্দিত যে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ’২৪ সালের শহীদদের স্মরণে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হচ্ছে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন এই স্মৃতি অম্লান থাকবে।”
জেলা প্রশাসন আরও জানান, স্মৃতিস্তম্ভটি শুধু একটি নির্মাণকাজ নয়, এটি জুলাই আন্দোলন পরবর্তী প্রজন্মের সংগ্রামের ঐতিহাসিক চেতনাকে বুকে ধারণ করার একটি জাতীয় প্রতীক হয়ে থাকবে।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন গণঅভ্যুত্থানে আহত সদস্য বৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং শিক্ষার প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ। উদ্বোধন শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।