
পঞ্চগড় থেকে রেলের মাধ্যমে ওয়াগানে করে বালু পরিবহনের কারনে সরকারের রাজস্ব আয় দিনদিন বৃষ্টি পাচ্ছে। তিন মাসে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে দেড় কোটি টাকা। পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশনের ষ্টেশন মাষ্টার (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে জাহিদুল ইসলাম জানান ১৬ জুলাই হতে আমি দায়িত্ব নেই। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দেখেছি বালু পরিবহনে পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত শুরু হয়েছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত ষ্টেশন মাষ্টার জাহিদুল ইসলাম জানান, বালু ব্যবসায়ীরা আগে পঞ্চগড় থেকে ট্রাকে করে বালু পরিবহন করতো। এতে করে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগছে। সরকার রেলের সাহায্যে বালু পরিবহন করার জন্য রেলের ওয়াগানে করে বালু পরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। তখন থেকেই রেলের ওয়াগানে বালু পরিবহন করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ৩ জুন থেকে রেলের ওয়াগনে বালু পরিবহন শুরু হয়। ৩ জুন থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ৫০ হাজার ২৪ টাকা।
পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রাজশাহী আমনুরা পর্যন্ত ৩০ টি ওয়াগানে বিসি ১৬২০ টন। ভাড়া ১০ লক্ষ ৪১ হাজার ৩শ টাকা। এসএস ট্রেডাস রাজশাহীর আমনুরা পর্যন্ত বালু পরিবহন করছে। এসএস ট্রেডার্সের মানিক হোসেন জানান, এর আগে আমরা ট্রাকের সাহায্যে বালু পরিবহন করেছি। তাতে সময় অনেক বেশি লাগছে এবং পরিবহন খরচও বেশি লাগছে।
পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত ৩০টি ওয়াগানে বিকেসি বালু যাচ্ছে ১৬৫৪.৫ টন। এর ভাড়া আদায় হয়েছে ১২ লক্ষ ৩০ হাজার ৬১৮ টাকা। একে ট্রেডার্সের প্রতিনিধি সফিউজ্জামান পাটোয়ারী ও কামরুল হাসান জানান, আমরা
বিকেসি বালু রেলের সাহায্যে পরিবহন করার কারনে অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্য স্থানে পৌছাতে পারছি। এতে আমাদের সময়ও কম লাগছে এবং খরচও কম লাগছে। ট্রাকে করে বালু পরিবহন করলে বালু কম করে নেয়া হতো। এখন রেলের ওয়াগানে বালু নিলে এক সাথে অনেক বেশি বালু নেয়া যায়।
৩০টি ওয়াগানে বালু উত্তোলনের সময় ১শ থেকে দেড় ১শ জন শ্রমিক কাজ করে। একেক জন শ্রমিক গড়ে ৭শ থেকে ১হাজার টাকা করে মুজুরি পান। পঞ্চগড় রেলওয়ে ষ্টেশনে কাজ করে গড়ে প্রতিদিন শ্রমিকরা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মুজুরি পান।
রেলওয়ে ষ্টেশনে কাজ করা শ্রমিকদের সর্দারসাইফুল ইসলাম জানান, এখানে প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বালু পরিবহনের সাথে কাজ করেই চলে তাদের সংসার। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে বালু পরিবহন বন্ধ থাকার কারনে শ্রমিকরা বেকার হয়ে বসে আছে। তিনি অবিলম্বে বালু পরিবহন শুরু করার দাবি জানান।
আজিমুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক জানান, আমরা এখানে কাজ করে প্রতিদিন ৭শ থেকে ১হাজার টাকা করে মুজুরি পাচ্ছি। মুজুরির টাকা দিয়েই আমাদের পরিবার চলে।