চাকুরি বদলে দিয়েছে পঞ্চগড়ের জাহিদুলের জীবন, বনে গেছেন কোটিপতি

চাকুরি বদলে দিয়েছে পঞ্চগড়ের জাহিদুলের জীবন, বনে গেছেন কোটিপতি

চাকুরি করেই জীবনটাকে পাল্টে দিয়েছেন পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম। বনে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক। সে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।

পঞ্চগড়, রংপুর বিভিন্ন জায়গায় করেছেন একাধিক বাড়ি, কিনেছেন বিঘা বিঘা জমি। ব্যাংকে নামে বেনামে জমিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা। দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন বুয়েট ও রুয়েটে।

সামান্য চাকুরি করেই কিভাবে এত সম্পদ গড়েছেন এ প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। তার অবৈধ এ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা বলেন, এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে বাজার দরের চাইতে বেশি দামে জাহিদুল ক্রয় করেন। অন্য কারো নেওয়ার কোন সুযোগ থাকেনা। কিভাবে এতাে অর্থের মালিক হলেন তিনি এ প্রশ্ন তাদের।

জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম নামের এ কর্মকর্তা তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন। তার বাবা টুনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিনা বেতনের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

কয়েক বিঘা জমি ছিল তার বাবার। বলা যায় নুন আনতে পানতা ফুরাতো সামসুল হকের। প্রায় ১৮ বছর আগে জাহিদুল ইসলাম মাত্র এইচএসসি পাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পায়।পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে হয়েছেন পরিদর্শক। আছেন ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে। তবে চাকুরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার রংপুরে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকায়। সেখানে টিনশেডের বাড়ি, আরাজি বেরুবাড়ি, ও কাজলদীঘি পুরানিগ্রাম মৌজায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। পঞ্চগড় পৌরসভার রওশনাবাগ ভুতেরডাঙ্গায় জমি ক্রয় করে গড়েছেন টিনশেডের বাড়ি। রংপুর মহানগর সর্দারপাড়া রোড, হাজীপাড়া মোড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের চার ও পাঁচ তলার কাজ চলমান।

সেখানকার স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন, জমির দাম এখানে প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫ শতক জমির দাম দেড় কোটি টাকা। সাথে বাড়ি নির্মাণ খরচ প্রায় আরো এক কোটি টাকা। জাহিদুল ইসলাম ১৭তম গ্রেড দিয়ে চাকুরি শুরু করে বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে পর্যায়ক্রমে ৯ম গ্রেডের বেতন পান। সে হিসেবে তার ১৮ বছরে গড়ে বেতন পায় ৫০-৬৫ লাখ টাকা। সেখান থেকে তার পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ, লেখাপড়ার খরচ চালানো হয়।

অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, এর কাছে মুঠোফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কলটি কেটে দেন। পরে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উর্মি দে বলেন, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *