ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সময় পাকিস্তান নীরবে ইরানি সামরিক বিমানকে সহায়তা দিয়েছিল— এমন দাবি উঠে এসেছে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরানের কয়েকটি সামরিক বিমান পাকিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নেয়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান তাদের কিছু কৌশলগত বিমান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এর অংশ হিসেবে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে অন্তত একটি নজরদারি বিমান অবস্থান করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
একই সময়ে ইরান আফগানিস্তানেও একটি বেসামরিক বিমান সরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিমানগুলো নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল নেয় তেহরান।
তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নূর খান ঘাঁটিতে ইরানি বিমানের উপস্থিতির খবর বাস্তবসম্মত নয়। তার দাবি, এমন ঘটনা ঘটলে স্থানীয় মানুষের চোখ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনও তাদের ভূখণ্ডে ইরানি বিমানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গেও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীনের ওপর পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা নির্ভরতার কারণে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে দেওয়া নতুন প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালী ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে এখনো দুই দেশের অবস্থানে বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।

