গ্রীষ্মজুড়ে বাড়তে পারে লোডশেডিং, জ্বালানি সংকটে চাপ বিদ্যুৎ খাতে

গ্রীষ্মজুড়ে বাড়তে পারে লোডশেডিং, জ্বালানি সংকটে চাপ বিদ্যুৎ খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির ঘাটতির কারণে চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামনে গ্রীষ্মকালজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল, কয়লা ও এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও সরবরাহ থাকছে প্রায় ১২-১৩ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। ফলে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মে চাহিদা আরও বাড়বে। তবে গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় উৎপাদনও অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

এদিকে কয়লাভিত্তিক কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কারিগরি সমস্যা রয়েছে। এসব কেন্দ্র দ্রুত চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, গ্রাম ও শহরের মধ্যে লোডশেডিং সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে কৃষি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট নিরসন না হলে আগামী কয়েক মাস বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *