ওয়ান নিউজ ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত দীর্ঘ দুই মাসব্যাপী কঠোর নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান সরকারের এক শীর্ষ কূটনীতিক ও উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেন, ওয়াশিংটনের সাথে চলমান শান্তি আলোচনায় তেহরানের অন্যতম প্রধান ও অনমনীয় শর্ত ছিল এই নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। তিনি আরও যোগ করেন, ‘অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আমরা শুরু থেকেই আলোচনার মূল টেবিলে জোর দিয়েছিলাম। অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয় হলো, আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই মার্কিন প্রশাসন আমাদের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে।’
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে জানান যে, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। তবে বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা সংস্থা ‘জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার’ (জেএমআইসি) গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে এই অবরোধ আগামী শুক্রবার (চুক্তি স্বাক্ষরের দিন) পর্যন্ত আংশিক বহাল থাকার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের আকস্মিক নির্দেশনায় তা আগেই প্রত্যাহার করা হলো।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ওই অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহতম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একপর্যায়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ ঘোষণা করে তেহরান। এরই প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের মূল বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেয়। তবে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার সফলতায় অবশেষে সেই অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটল।

