ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারী জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি করছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অনুসন্ধানে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি তালিকা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমপিও স্থগিত, মামলা দায়ের, এবং বেতন-ভাতার অর্থ ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, অধিকাংশ—২৫১ জন—শিক্ষক বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর সনদ জাল করে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব জাল সনদধারীদের কাছ থেকে সরকারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায়যোগ্য। এর মধ্যে এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির পরিমাণই প্রায় ৪৮ কোটির বেশি।
ডিআইএ সূত্র জানায়, নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে জাল সনদ শনাক্তে কাজ শুরু করে ডিআইএ। বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

