ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দেশের নিম্ন আদালতসমূহে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির আইনি সনদ অর্জনের প্রথম ধাপে বড় ধরনের সাফল্য লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি বা এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) পরীক্ষায় তিনি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত গভীর রাতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার প্রথম ধাপের এই কঠিন পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে সর্বমোট ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন, যার মধ্যে মেধাবী শিক্ষার্থী জাইমা রহমান অন্যতম।
বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ার এই আনন্দদায়ক বিষয়টি জাইমা রহমান নিজেই তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে দেশবাসীকে নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের সবার সাথে আমার জীবনের ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। নিজের প্রিয় মাতৃভূমিতে আইন পেশা (ল’ প্র্যাক্টিস) শুরু করার লক্ষ্যে আজ আমি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সেই পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছি।’ বার কাউন্সিল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে জাইমা রহমান অত্যন্ত সাধারণ একজন পরীক্ষার্থীর মতোই রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এই ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
বার কাউন্সিলের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য সারা দেশ থেকে মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন শিক্ষানবিস আইনজীবী ও প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। ওএমআর শিটের মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁত ও কঠোর প্রক্রিয়ায় খাতা মূল্যায়নের পর মেধার ভিত্তিতে পরবর্তী লিখিত পরীক্ষার ধাপের জন্য এই ৯ হাজার ২০১ জনকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো প্রার্থীকে আইন পেশার সনদ বা অ্যাডভোকেটশিপ লাভ করতে হলে অত্যন্ত কঠোর তিনটি ধাপে উত্তীর্ণ হতে হয়—যার প্রথমটি এমসিকিউ, দ্বিতীয়টি লিখিত এবং চূড়ান্ত ধাপটি হলো ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। এই তিনটি ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই একজন প্রার্থী দেশের যেকোনো আদালত ও ট্রাইব্যুনালে একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কাজ করার বৈধ লাইসেন্স লাভ করেন। জাইমা রহমানের এই ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত সাফল্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বন্ধুমহল, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ব্যাপক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন, তিনি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইন অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

