আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছেই। শান্তি আলোচনার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন কৌশলকে সরাসরি উপহাস করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরোপিত নৌ-অবরোধের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। বরং তেল উৎপাদন বা অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবফ জানান, অবরোধের ফলে তেল রপ্তানিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও ইরানের জ্বালানি খাতে কোনো গুরুতর সংকট তৈরি হয়নি। তিনি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কৌশলকে ‘অবাস্তব’ ও ‘ভুল পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল খাতকে দুর্বল করে আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করা। তবে ইরানি নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
গালিবফ দাবি করেন, বর্তমান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। তার মতে, তেলের দাম ইতোমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা আরও বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত যেতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে অবরোধের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উত্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

