ওয়ান নিউজ ডেস্ক: আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বেশ কয়েকটি শহর ও দ্বীপে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যকে ‘ঐশ্বরিক বিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইরান। শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা এবং মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের মায়ুন বা পেরিম দ্বীপ দখলে নেওয়ার মাধ্যমে হুতিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে, যার ফলে ইয়েমেন সরকার এই সাগরে তাদের সরাসরি প্রবেশাধিকার হারিয়েছে। হুতিদের এই অগ্রযাত্রায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের একে বছরের পর বছর ধরে চলা প্রতিরোধের চূড়ান্ত ফল বলে প্রশংসা করেছেন এবং দেশটির গণমাধ্যমগুলো একে ‘প্রতিরোধের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে প্রচার করছে। এদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি নিশ্চিত করেছেন যে সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্যান্য সকল বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই নৌপথ নিরাপদ রয়েছে, যদিও তাদের এক কমান্ডার সতর্ক করেছেন যে এখন ড্রোন বা মিসাইলের পাশাপাশি উপকূলে কামান বসিয়েও জাহাজে হামলা চালানো সম্ভব। হুতিদের এই অগ্রগতি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিলেও, প্রণালিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার কোনো ঘোষণা তারা দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হুতিদেরকে তেহরানের ‘প্রক্সি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের কারণেই তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিচ্ছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব এবং অন্যদিকে বাব আল-মান্দাবের কাছে হুতিদের শক্ত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কৌশলগত চাপ বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করলেও, ইরান আপাতত কোনো নৌপথ বন্ধের ঘোষণা না দিয়ে বরং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে সোমবার আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

