বেইজিং সফরের পরও অনিশ্চিত রয়ে গেল মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ভবিষ্যৎ
ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরে তিনি চেয়েছিলেন, তেহরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি অংশীদার হিসেবে চীন যেন ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসে। তবে সফর শেষে ওয়াশিংটন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক আশ্বাস বা দৃশ্যমান অগ্রগতির ঘোষণা পায়নি।
চীনে অবস্থানকালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ চান না এবং তিনি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। যদিও একই সময়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করে জানায়, সংকটের সমাধান হতে হবে সংলাপের মাধ্যমে, সংঘাত বাড়িয়ে নয়।
ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীন সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরে স্পষ্ট করেন, বেইজিংয়ের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ এখনো জানানো হয়নি।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশই হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে এবং ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়েও উভয়পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি। তবে চীনের সরকারি বিবৃতিতে এসব বিষয় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে চীন তার অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক ব্যবহার করে তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে ভূমিকা রাখুক। কিন্তু বেইজিং এখনো সরাসরি কোনো অবস্থান না নেওয়ায় পরিস্থিতি জটিলই রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে চেষ্টায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে এখনো বড় ধরনের অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়। ফলে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ আপাতত অব্যাহত থাকছে।

