ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। সড়ক, মহাসড়ক ও বাস টার্মিনালগুলোতে বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। একই সঙ্গে চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১১ মে) সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তুতি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ঠেকাতে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।
এছাড়া রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালে বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
যানজট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঈদের আগে ও পরে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এবং টোল প্লাজাগুলোতে বিজিবি সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, স্কাউট সদস্য ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে থাকবে।
ঈদে বাড়তি যাত্রীচাপ সামাল দিতে বিআরটিসি বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখা হবে। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের সময়সূচি ও ট্রেন চলাচলের ব্যবধানেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিমও কাজ করবে।
সভায় সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

