ওয়ান নিউজ ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বগুড়ার বাজারগুলোতে কাঁচামরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির মূল্যে রীতিমতো আগুন লেগেছে, যার ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ মানুষ। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে কেজিপ্রতি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে; যেখানে জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি আড়ত মহাস্থান হাটে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া মরিচ পরিবহন ও শ্রমিক খরচের কারণে খুচরা পর্যায়ে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) শহরের রাজাবাজার ও ফতেহ আলী বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সবজির দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে; ১০০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়, পাশাপাশি করলা ও ফুলকপি ১৬০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, গাজর ও তরই ১০০ টাকা, মুখিকচু ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ও কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী; পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি আদা ও চীনা রসুন ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফতেহ আলী বাজারের বিক্রেতা ফজলু মিয়ার মতে, কৃষকদের জমি তলিয়ে গিয়ে সরবরাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলামও সমর্থন করে জানান যে, লাগাতার বৃষ্টিতে সবজি গাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বাজারে এই সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে বাজারে আসা ক্রেতা হেদায়েদ হোসেন হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, সবকিছুর অস্বাভাবিক দামের কারণে বর্তমানে বাজার করতে আসাই আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য দৈনন্দিন সংসার চালানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

