বাজেট চূড়ান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ এনবিআরের বৈঠক, বাড়তে পারে ভ্যাট-উৎসে কর

বাজেট চূড়ান্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আজ এনবিআরের বৈঠক, বাড়তে পারে ভ্যাট-উৎসে কর

ওয়ান নিউজ ডেস্ক:

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট চূড়ান্ত করতে আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বৈঠকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

বুধবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সরকারের অর্থ ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানও উপস্থিত থাকবেন।

সূত্র বলছে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবার বেশ কিছু নতুন কর কাঠামো যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেল, চিনি, গম, মাছ, মাংস ও কৃষিপণ্যের সরবরাহ পর্যায়ে উৎসে কর বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যে যে হারে কর কাটা হয়, তা দ্বিগুণ করার চিন্তাভাবনা চলছে।

এছাড়া রপ্তানি খাতে দেওয়া সরকারি প্রণোদনার ওপর উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় বাড়তে পারে বলে মনে করছে এনবিআর।

অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে নতুনভাবে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক নির্ধারিত হারে ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে ছোট ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাজেটে আরও কিছু পণ্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রসাধনী, কোমল পানীয়, আইসক্রিম, সিগারেট-বিড়ি ও তামাকজাত পণ্য উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচেও নতুন কর আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে অতি ধনীদের ওপর সম্পদ কর আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাজারে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাজেটের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থও বিবেচনায় রাখা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *