বিএনপির প্রবীণ নেতা ও একমি গ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু

বিএনপির প্রবীণ নেতা ও একমি গ্রুপের কর্ণধার মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যু

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস, মুন্সীগঞ্জজুড়ে শোক

ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিক, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। শুক্রবার গভীর রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা জানিয়েছেন, তার মৃত্যুতে দল একজন অভিজ্ঞ অভিভাবক ও নিবেদিতপ্রাণ সংগঠককে হারালো।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি স্থানীয় রাজনীতি, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া দেশের অন্যতম শিল্পপ্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপের নেতৃত্বেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮৩ সাল থেকে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে থেকে শিল্পখাতে অবদান রাখেন।

জানা যায়, ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটলেও পরবর্তীতে দেশে ফিরে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ব্যাংকিং খাতে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যুক্ত হন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও অসুস্থতার কারণে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি। পরে তার পরিবর্তে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

তার মৃত্যুতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী মহল এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দলীয় নেতারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ দেশে আনার পর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *