ওয়ান নিউজ ডেস্ক: চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনার ওপর ভরসা রাখছেন দেশের ব্যবসায়ী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা। অংশীজনদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মহলের একটি কার্যকর বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে বিদ্যমান পরিস্থিতির অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উন্নতি সম্ভব, কারণ ইতিমধ্যেই সংসদীয় অধিবেশনে তিনি এ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সংকট সমাধানে বিশেষজ্ঞরা স্বল্পমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন; যার মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার, শিল্পকারখানা ও আবাসিক পর্যায়ের অবৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সব স্থাপনায় দ্রুত রুফটপ সোলার প্যানেল স্থাপন করা। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাতের মতে, বর্তমানে এলএনজির তুলনায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫-৬ শতাংশ সাশ্রয়ী হওয়ায় সরকার যদি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আংশিক কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেয়, তবে সাশ্রয়কৃত প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস শিল্প খাতে সরবরাহ করে অনেকটাই স্বস্তি ফেরানো সম্ভব। পোশাক খাতের শীর্ষ দুই সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উভয়েই কারখানার উৎপাদন ও বিদেশি ক্রেতাদের শিপমেন্ট ঠিক রাখতে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি সুনির্দিষ্ট সময়রেখা ও গাইডলাইন পেতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে পেট্রোবাংলা গ্যাস রেশনিংয়ের পাশাপাশি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে; যা এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের মতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অন্যদিকে, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফাঁদে না পড়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ভোলা ও পুরোনো টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দ্রুত গ্যাস উত্তোলনের মতো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এবং বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর চাপের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারকে সব পক্ষের মতামত শোনার আহ্বান জানিয়েছেন।

