মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা: মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলা

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীর বন্দর ও কৌশলগত দ্বীপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো বিমান হামলার জবাবে এবার মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। আজ বুধবার (১০ জুন) ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে এই ভয়াবহ ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।

আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পঞ্চম নৌবহর’ (Fifth Fleet) লক্ষ্য করে তারা ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং একই সাথে জর্ডানের ‘আজরাক’ মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পন্ন করেছে। এদিকে, মার্কিন সেনা উপস্থিতি থাকা কুয়েতও আজ বড় ধরনের হামলার মুখে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কুয়েতের প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ‘শত্রুপক্ষের একাধিক আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু ও ড্রোন’ সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত গত মঙ্গলবার (৯ জুন) হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে এই যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়, যার জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি রক্তক্ষয়ী হামলার ফলে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক সর্বাত্মক আঞ্চলিক সংঘাত ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই আগ্রাসী হামলা পুরো পরিস্থিতিকে এক জটিল গোলকধাঁধায় ফেলে দিয়েছে, যেখানে কূটনীতি নাকি সরাসরি সামরিক যুদ্ধ অগ্রাধিকার পাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরান বরাবরই বলে আসছে যে তারা আলোচনার পথ খোলা রেখেছে, তবে ওয়াশিংটনের ওপর তাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক উসকানিমূলক হামলা চালিয়ে শান্তির পরিবেশ নষ্ট করছে।

অথচ এই সংঘাতের ঠিক আগের দিন সোমবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ইরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে একটি গোপন শান্তি আলোচনার চেষ্টা চললেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মূলত ওয়াশিংটন চায় ইরান যেন তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পূর্ণ ত্যাগ করে; বিপরীতে তেহরানের দাবি, যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তির আগেই তাদের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বব্যাংকে স্থগিত থাকা ইরানি সম্পদ মুক্তি দিতে হবে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সোমবার ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই যুদ্ধংদেহী আচরণ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে কোনো যুদ্ধবিরতি বা আন্তরিক সংলাপ চায় না, বরং তারা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি অশান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *